বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দীর্ঘ বছর পর মা ছেলের আবেগঘন মিলন। বুধবার (০৮ জানুয়ারি) সকালে ৯টার পরপর হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার হযরত আলী খান। এরপর পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান খালেদা জিয়ার পা ছুঁয়ে সালাম করেন। জৈষ্ঠ্য পুত্র তারেক রহমান মায়ের হুইল চেয়ারের কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তারেক রহমান মাকে নিয়ে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলের দ্য ক্লিনিকের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বেলা ১১টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছান তাঁরা। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গেই লন্ডনে গেছেন তার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দ শামিলা রহমান সিঁথি। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ অনেক নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৭-০৮ সালের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার মত তার বড় ছেলে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান, দেশে আর ফেরেননি।
এর মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তারেককে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে হয়। ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু আর মায়ের কারাগারে যাওয়ার মত দুঃসময়েও তার দেশে ফেরা হয়নি।
খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে কেবল তখনই মায়ের স্পর্শ পাওয়ার সুযোগ হত তারেকের। সবশেষ সে সুযোগ হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। সেবার নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
পরের বছর ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জন্য বার বার অনুমতি চাইলেও তাতে সাড়া দেয়নি আওয়ামী লীগ সরকার।
২০১৭ সালের ১৫ জুলাই হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে খালেদা জিয়া পায়ে হেঁটেই টার্মিনালে যেতে পেরেছিলেন। সেবারও মাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারেক রহমান।
আর এবার খালেদা জিয়াকে বিমান থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে করে যখন টার্মিনালে নেওয়া হল, তার সামনে থমকে দাঁড়ান তারেক। হাঁটু গেড়ে বুকে জড়িয়ে নেন মাকে।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, “এ যেন এক অন্যরকম স্পর্শ, অন্য রকম মুহূর্ত যা ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়। যিনি মায়ের স্পর্শ অনেকদিন পাননি, তিনিই বুঝতে পারবেন এর আবেদন।”
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাকে ভর্তি করা হবে বিখ্যাত লন্ডন ক্লিনিকে, যেখানে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্যরাও চিকিৎসা নেন।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে তাকে পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হতে পারে বলেও আভাস দিয়ে রেখেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রয়েছেন প্রায় ১৬ বছর। ওয়ান-ইলেভেন সরকার ও পরে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অন্তত ৮৪টি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এসব মামলার সিংহভাগ নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। বাকিগুলোও একই পথে। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন- সহসাই দেশে ফিরবেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান।
২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার কথিত অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড় করে। সেসময় গ্রেপ্তার করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ব্যবসায়ীদের। ওই বছরের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। কারাগারে থাকাকালে তিনি প্রচণ্ড নির্যাতনের শিকার হন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে লন্ডন চলে যান তিনি।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply